আজ (২২ ফেব্রæয়ারি, ২০২৫) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক ২৭ জুন, ২০১৩ তারিখের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর, চুনারুঘাট এবং বাহুবল উপজেলার সিলিকা বালু খনি থেকে অবৈধ, অননুমোদিত ও নির্বিচার বালু উত্তোলন প্রতিরোধে বিবাদীগণের ব্যর্থতা সংবিধান এবং দেশে প্রচলিত আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ায় কেন তা আইনত কর্তৃত্ববিহীন, অবৈধ এবং জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে বিবাদীগণের উপর রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ।
রুল জারির পাশাপাশি মহামান্য আদালত খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো এর মহাপরিচালক; হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক; পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ জেলার উপপরিচালক; মাধবপুর, চুনারুঘাট এবং বাহুবল উপজেলার র্নিবাহী কর্মকর্তাকে উল্লেখিত খনি থেকে সিলিকা বালুর অবৈধ, অননুমোদিত এবং নির্বিচার বালু উত্তোলনের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন। একইসাথে উল্লেখিত খনি থেকে সিলিকা বালুর অবৈধ, অননুমোদিত এবং নির্বিচার বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি মূল্যায়নপূর্বক বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত অপরাধীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ আরোপ এবং আদায়ের নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত। সেইসাথে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে উপরোক্ত আদেশ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য আদালত।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত একটি জনস্বার্থমূলক মামলার (নং ২৭৯/২০২৬) প্রাথমিক শুনানি শেষে জনাব বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মোঃ আসিফ হাসান এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ২৩ জুন, ২০১৩ এ প্রকাশিত গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলায় মোট ২৩টি সিলিকা বালুমহাল রয়েছে যার অধিকাংশই চা বাগানের ভেতরে অবস্থিত। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক কর্তৃক গত ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে প্রেরিত ২৮.০৭.০০০০.০০৪.৩৫.০০২.১৫ (অংশ-১).২৩ নং স্মারকবাহী পত্রের মাধ্যমে জানা যায় ১৪৩১-১৪৩২ বাংলা সনে উল্লেখিত বালুমহালগুলো ইজারা প্রদান করা হয়নি। সরকার ঘোষিত বালুমহালগুলো ইজারা প্রদান না করা সত্তে¡ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি ও নজরদারির অভাবে উল্লেখিত বালুমহাল ও বিভিন্ন চা বাগানের ছড়া, সংরক্ষিত এলাকাসহ যত্রতত্র থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে মর্মে দেশের একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের সুতাং নদীর চাকলাপুঞ্জি, রামগঙ্গা, চন্ডী ছড়া, চান্দপুর বস্তি, বনগাও; ৪নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের দেউন্দি চা বাগানের বদরগাজী ছড়া; ৮নং সাটিয়াজুড়ি ইউনিয়নের দারাগাও চা বাগানের ছড়া; শানখলা ইউনিয়নের পানছড়ি মৌজার রঘুনন্দন পাহাড়ের গাধাছড়া ও খাসবাড়ি টিলা, পঞ্চাশ, ডেউয়াতলী, সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের দেওছড়া ও ইছালিয়া ছড়া; মাধবপুর উপজেলার ৬নং শাহাজানপুর ইউনিয়নের বনগাও বান্ডুরা, ইটাখোলা ছড়া; বাহুবল উপজেলার ২নং পুটিজুড়ি ইউনিয়নের বৃন্দাবন চা বাগানের কালী ছড়া এবং ৭নং ভাদেশ্বর ইউনিয়নের রসিদপুর চা বাগান স্থানসমূহ থেকে।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী উল্লেখিত এলাকাসমূহে বালু উত্তোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন যার বিকট শব্দে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এবং ছড়ার আশেপাশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। অবৈধ ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে ভাঙন দেখা দিয়েছে পাহাড়ের পার্শ^বর্তী একাধিক টিলায় যা যেকোনো সময়ে ধ্বসে পড়ে প্রাণহানিসহ অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করতে পারে। আইনবহির্ভূত ও অননুমোদিতভাবে যত্রতত্র থেকে যান্ত্রিকভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার কৃষিজমি, বাশঁঝাড়, চা বাগান, রাবার বাগান, পাহাড়ি ছড়া, সংরক্ষিত বন, চা শ্রমিকদের বসতঘর, স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, কৃষিজমি, সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো এবং চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা উল্লেখিত এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে।
বালু উত্তোলনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফসলী জমি, বসতবাড়ি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষর্থেই মূলত এ জনস্বার্থমূলক মামলা দায়ের করেছে বেলা।
মামলার বিবাদীগণ হলেন: ভ‚মি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের (জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ) সচিব; পরিবেশ অধিদপ্তর ও খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক; হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ও হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয় উপপরিচালক এবং হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল, চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
বেলা’র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মোহাম্মদ আশরাফ আলী, বার-এট-ল’, তাঁকে সহায়তা করেন এডভোকেট এস. হাসানুল বান্না। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব মুহাম্মাদ শফিকুর রহমান। আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-
এস. হাসানুল বান্না
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট
ও
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৮৩৩০২৬২৬২
তারিখ: ২২ ফেব্রæয়ারি, ২০২৬

