আজ (২৬ ফেব্রæয়ারি, ২০২৬) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বাসযোগ্য ঢাকা মহানগরী গড়ে তুলতে কতিপয় সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ডের সভাপতি যিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় এর বরাবর পত্র প্রেরণ করেছে। বেলা কর্তৃক প্রেরিত এ পত্রের মাধ্যমে নি¤েœাক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে-
(ক) সকল নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখা নিশ্চিত করার জন্য এবং নির্মাণ কাজ থেকে সৃষ্ট শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে শব্দ দূষণ বিধিমালা, ২০২৫ ও অন্যান্য দেশের কার্যকরী মডেল অনুসরণে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রণয়ন ও তা প্রতিপালনে রাজউক এর অথরাইজড অফিসার, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশের নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা;
(খ) ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ এ (বিধি ৭০) ৫ কাঠা জমিতে নির্মিত ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সংস্থান রাখার ও নির্মাণকালে তা বাস্তবায়নের এবং বিদ্যমান ভবনগুলোতে এক বছরের মধ্যে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা বাস্তবায়নে তদারকি কার্যক্রম গ্রহণ, এবং
(গ) প্রাথমিক পর্যায়ে সকল সরকারি ভবন পরিবেশসম্মত ভবন হিসেবে নির্মাণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।
উল্লেখ্য যে, দেশের রাজধানী ঢাকা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিভিন্ন সূচকে পরিবেশগত মানদÐে পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বসবাসঅযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এ মহানগরী। বায়ু ও শব্দ দূষণে এ নগরী প্রায়শই বিশ্বে শীর্ষ অবস্থান করে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। বায়ু ও শব্দ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী থেকে সৃষ্ট দূষণ যা বিপর্যস্ত করছে ঢাকার জনজীবনকে। উন্মুক্তভাবে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার কারণে বাতাসে ধুলার পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ু দূষণকে আরও তীব্র করছে। নগরীর নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নগরকৃষি ও নগরবাসীর বিনোদনের কেন্দ্রে নগরীর নদী ও খাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও পয়ঃবর্জ্য ও মিশ্রবর্জ্যরে মাধ্যমে এ জলাশয়গুলো প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। ঢাকা শহরে নির্মাণ কাজে অতিরিক্ত আধিক্য থাকলেও সরকারি বা বেসরকারি কোন পর্যায়ে পরিবেশসম্মত ভবন (গ্রীন বিল্ডিং) নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেই। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অতি সম্প্রতি পরিবেশসম্মত ভবনের একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন করলেও উদ্যোগের অভাবে তা পরিচিত হচ্ছে না। অথচ এ নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিবেশসম্মত ভবন নির্মাণ হলে পানি, বিদ্যুৎ যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি পোড়ানো ইটের বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির টপসয়েল ধ্বংস থেকে রক্ষা পাবে। দেশে বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টপসয়েল কাটার বিষয়ে আইনি বিধান ও নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা প্রয়োগে নিয়মিত ও কার্যকরী উদ্যোগের অভাবে এসব বিধান জনস্বার্থ রক্ষা করতে সফল হচ্ছে না। তাই বাসযোগ্য ঢাকা মহানগরী গড়ে তুলতে উল্লেখিত (ক থেকে গ ক্রমিকে বর্ণিত) ব্যবস্থা গ্রহণ অতি জরুরী বিধায় বেলা থেকে এ পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। বাসযোগ্য ঢাকা মহানগরী গড়ে তুলতে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেলা সরকারের কাজে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রæতি দিয়েছে।
আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-
এস. হাসানুল বান্না
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট
ও
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৮৩৩০২৬২৬২
তারিখ: ২৬ ফেব্রæয়ারি, ২০২৬

