-প্রেস বিজ্ঞপ্তি-
আজ (১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ), নো ডেভেলপমেন্ট জোনে এবং সংরক্ষিত পর্যটন এলাকায় কক্সবাজার পৌরসভা কর্তৃক ১.৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের সকল কার্যক্রমের উপর গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হাইকোর্ট প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন।
উল্লেখ্য গত ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলার (নং- ১২২৯৪/২০২৬) প্রাথমিক শুনানি হাইকোর্ট ডিভিশন রুল জারির পাশাপাশি উক্ত সড়কটি নির্মাণের উপর আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এই নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে সরকার লিভ টু আপিল ফাইল করলে সেটি আজ আপিল বিভাগে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানী হয় এবং শুনানী শেষে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে মামনা আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞাটি বহাল রাখেন এবং এবং হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রুলটি আদালতের অবকাশকালীন পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলটি নিষ্পত্তি করার জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দেন এবং সেই সাথে হাইকোর্ট বিভাগ প্রদত্ত রাস্তা নির্মাণ উপর নিষেধাজ্ঞাটি রুলের শুনানী না হওয়া পর্যন্ত বজায় থাকবে এই মর্মে আপিল বিভাগ নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ও নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ এ কক্সবাজার পৌরসভা একটি সড়ক নির্মাণ করছে। ‘নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্প’-এর আওতায় জাইকার অর্থায়নে সৈকতের বিশাল এলাকা ভরাট করে প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হলে বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীগণ এর প্রতিবাদ করেন। এ সড়ক নির্মাণের জন্য উপকূল সুরক্ষার অন্যতম প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে পরিচিত বহু বছরের বালিয়াড়ি নির্বিচারে এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে সৈকতের পরিবেশের জন্য অপরিহার্য উদ্ভিদ সাগরলতাসহ লাল কাঁকড়া ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল।
ইতিপূর্বে সমুদ্র সৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে এবং নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায় ও আদেশ প্রদান করেছেন। সর্বোচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ অমান্য করে কক্সবাজার পৌরসভা কর্তৃক সৈকতের বুক চিরে সড়ক নির্মাণের বিরুদ্ধে এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত সকল রক্ষায় বেলা জনস্বার্থে উল্লেখিত মামলাটি দায়ের করে।
মামলার বিবাদীগণ হলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব; স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব; বেসাময়িক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব; কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; কক্সবাজরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার; কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক; পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় পরিচালক, এবং ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) লি: এর জেনারেল ম্যানেজার।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী এবং তাঁকে সহায়তা করেন এডভোকেট হাসানুল বান্না। সরকার পক্ষে ছিলেন মাননীয় এটর্নী জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-
এস. হাসানুল বান্না
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
ও আইনজীবী, বেলা
মোবাইল ০১৮৩৩০২৬২৬২
তারিখ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

