আজ (১৮ জানুয়ারি, ২০২৬) সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহমান যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ অবমাননার অভিযোগে সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন মহামান্য আদালত। জারিকৃত এ রুলে কেন বিগত ০৩ জুন, ২০১০ তারিখে জনস্বার্থমূলক মামলা (নং ৪৭৯৫/২০০৯) এ প্রদত্ত আদালতের রায় লঙ্ঘনের কারণে বর্তমান জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না এবং কেন আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তি প্রদান করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এবং বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের ক্ষতিপূরণের দাবীতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) ২০০৯ সালে একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (নং ৪৭৯৫/২০০৯) দায়ের করে। মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিগত ০৩ জুন, ২০১০ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রুল চূড়ান্তকরণের মাধ্যমে তাহিরপুর উপজেলাধীন পুরানলাউর, চালিয়ারঘাট, লামাশ্রম, পূর্বদইল এবং ঘাগড়া মৌজার উপর দিয়ে প্রবাহিত যাদুকাটা নদীর তীর কেটে বেআইনিভাবে বালু উত্তোলনকে অবৈধ ঘোষনা করেন। একইসাথে আদালত অবৈধ বালু উত্তোলন থেকে যাদুকাটা নদী, নদীর তীর ও নদীগর্ভ রক্ষার নির্দেশ দিয়ে রায় প্রদান করেন। কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের অভাবে রায় পরবর্তী সময়ে কখনও এ নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। অধিকন্তু আদালতের আদেশ অনুযায়ী এ নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ না করে জেলা প্রশাসন কোনোরূপ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ না করে দু’টি বালুমহাল ঘোষণা করে এবং ইজারা প্রদানের মাধ্যমে এ নদীর অধিক ক্ষতি সাধন করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে সাময়িকভাবে ইজারা বন্ধ রাখলেও নদীর বিভিন্ন স্থানে ও নদীর তীর কেটে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় নদীর তীর ভেঙে বিলীন হতে চলেছে নদী সংলগ্ন কৃষিজমি, গাছপালা, বসতভিটা। নির্বিচারে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে অনেকের বাড়ির কাছে চলে এসেছে নদী, ফলে নদী তীরবর্তী জনবসতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আশংকা করা হচ্ছিল নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদী তীরবর্তী অন্তত ২০টি গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। উল্লেখিত অবস্থার প্রেক্ষিতে যাদুকাটা নদী ও নদী সংলগ্ন বসবাসকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) একটি আদালত অবমাননার মামলা (নং ৩৮৭/২০২৫) দায়ের করে।

জনাব বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও জনাব বিচারপতি মোঃ আসিফ হাসান-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলাটির প্রাথমিক শুনানি শেষে উল্লেখিত রুল জারি করেন।

বেলা’র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী এবং তাঁকে সহযোগিতা করেন এডভোকেট এস. হাসানুল বান্না ও এডভোকেট রুমানা শারমিন।

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-

এস. হাসানুল বান্না
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
ও আইনজীবী, বেলা
মোবাইল ০১৮৩৩০২৬২৬২
তারিখ: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬