-প্রেস বিজ্ঞপ্তি-
আজ (০১ জুলাই, ২০২৬) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও সমমনা কয়েকটি সংস্থা কর্তৃক কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলাধীন খুটাখালী মৌজাস্থ সংরক্ষিত বন ও খুটাখালী-মেধাকচ্ছপিয়া হাতির করিডোর রক্ষায় সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। পত্রটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব; প্রধান বন সংরক্ষক; বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ, কক্সবাজার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলাধীন খুটাখালী থেকে ঈদগড় পর্যন্ত মোট এগার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (ঝঈজউচ) এর অধীন এ সড়কের নির্মাণ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। এগারো কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কই পড়েছে খুটাখালী সংরক্ষিত (মধুশিয়া গর্জনবন) বনের অংশে। সংরক্ষিত বনের এ অংশে মহাবিপন্ন এশীয় হাতির খুটাখালী-মেধাকচ্ছপিয়া করিডোর (চলাচলের পথ) অবস্থিত যেখানে নিয়মিতভাবে বন্যহাতি চলাচল করে। সংরক্ষিত বনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক গাছসহ বনায়নের আওতায় রোপণ করা অসংখ্য গাছ রয়েছে। বনাঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের বন্যপ্রাণী যেমন বন্যশূকর, বানর, শিয়াল, বনমোরগ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সাপ রয়েছে। প্রস্তাবিত সড়ক নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ফলে সংরক্ষিত বনভূমির অসংখ্য গাছপালা কাটা হবে, যারফলে বনভূমির অখÐতা নষ্ট হবে এবং একসময় বনভূমি সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যাবে। সড়ক নির্মাণের ফলে বনাঞ্চলে মানুষ ও যানবাহন চলাচল এবং বনবিরোধী কর্মকাÐ বেড়ে যাবে যা সংরক্ষিত বনভূমির অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। খুটাখালী সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হাতির প্রাকৃতিক চলাচলের আরও একটি পথ নষ্ট হয়ে যাবে।
আরও উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় তিন হাজারেরও বেশি রোপিত গাছ না কেটে কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভের চার লেনের সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। অধিকন্তু অন্তর্র্বর্তী সরকার প্রণীত বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ বর্তমান সরকার সংসদে অনুমোদনের মাধ্যমে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে যেখানে বনভ‚মি ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় প্রাকৃতিক বনের বনবিরুদ্ধ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রদানে সরকারের রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিশ্রæতি ।
দেশের প্রচলিত আইন, নীতি ও সরকার প্রধানের সাম্প্রতিক নির্দেশনা ও অবস্থানের আলোকে খুটাখালী প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে সড়ক নির্মাণের অনুমোদন প্রদানের সুযোগ নেই উল্লেখ করে পত্রে স্বাক্ষরকারীগণ অনতিবিলম্বে খুটাখালী প্রাকৃতিক বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজনে সরকারকে সহায়তারও প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন।
প্রেরিতপত্রে স্বাক্ষর করেন-
খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি
শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)
মো: আলমগীর কবির, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)
জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ
অ্যাডভোকেট মুহাম¥দ শফিকুর রহমান, চেয়ারপারসন, প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি
আহসান রনি, প্রতিষ্ঠাতা, গ্রীন সেইভার্স
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)
প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অবৈধ দখলের কারণে দেশের বনভূমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। বনভূমি ধ্বংস হওয়ায় আবাসস্থল ও খাদ্যের অভাবে উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা। মনুষ্যসৃষ্ট নানা কারণে উপক‚লীয় চকরিয়া সুন্দরবন সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে যার ফলাফল হিসেবে ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৯১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। চুনতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে রেললাইন নির্মাণের ফলে মহাবিপন্ন এশীয় হাতির চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়াও কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনভূমিতে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের ফলে হাতি চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি করিডোর সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রেরিত পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, বিধান করবে।
রুমানা শারমিন
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট
ও
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৬৮৮ ৪৫৮২৪৬
তারিখ: ১ জুলাই, ২০২৬

