-প্রেস বিজ্ঞপ্তি-
আজ (১৯ জুলাই, ২০২৬) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলাধীন চকরিয়া সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্তকরণ (ডি-রিজার্ভ) সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনসমূহ এবং সুন্দরবনের সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনভূমি পুনরুদ্ধারে বিবাদীগণের ব্যর্থতা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী হওয়ায় কেন তা অসাংবিধানিক, স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে বিবাদীগণের উপর রুল জারি করেছেন মহামান্য আদালত। জারিকৃত এ রুলে আদালত কেন বিবাদীগণকে কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত ২১,০২০.৪৫ একর সংরক্ষিত ও রক্ষিত “চকরিয়া-সুন্দরবন” বনভূমি থেকে সকল অবৈধ ইজারা/বরাদ্দ বাতিল এবং সকল অবৈধ ও অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদপূর্বক উক্ত বনভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের নির্দেশ প্রদান করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলার (রিট পিটিশন নং- ৮২৬৪/২০২৬) প্রাথমিক শুনানি শেষে জনাব বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও জনাব বিচারপতি মো: আসিফ হাসান-এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ উক্ত রুলটি জারি করেন।
উল্লেখ্য, চকরিয়া-সুন্দরবন ঐতিহাসিকভাবে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার একটি বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনভূমি, যা কালক্রমে অপরিকল্পিত ইজারা প্রদান, অবৈধ দখল এবং গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডি-রিজার্ভেশনের ফলে প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একাধিকবার এ বনভূমি পুনরুদ্ধারের নির্দেশনা-সংক্রান্ত স্মারক জারি করা হলেও তা অদ্যাবধি বাস্তবায়িত হয়নি, যা বন আইন, ১৯২৭ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৮ক অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমতাবস্থায় চকরিয়া-সুন্দরবন রক্ষা, অবৈধ দখল ও ইজারা থেকে মুক্তকরণ এবং সম্পূর্ণ বনভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বেলা উক্ত জনস্বার্থমূলক রিট পিটিশনটি দায়ের করে।
মামলার বিবাদীগণ হলেন- ভ‚মি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব; কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত উপ কমিশনার (রাজস্ব) ও পুলিশ সুপার , বন সংরক্ষক (চট্টগ্রাম বিভাগ), বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ), বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপক‚লীয় বন বিভাগ) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চকরিয়া।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার মো: আশরাফ আলী এবং তাঁকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রুমানা শারমিন।
আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-
এস. হাসানুল বান্না
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট
ও
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৮৩৩০২৬২৬২
তারিখ: ১৯ জুলাই, ২০২৬

