-প্রেস বিজ্ঞপ্তি-
আজ (০৬ আগস্ট, ২০২৬) কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলাধীন মহেশখালী পাহাড় মৌজাস্থ সংরক্ষিত বনের (পরিমাণ ১৮,২৮৬.৪০) ভেতর দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (ঝঈজউচ) এর অধীন ৪.৮৮০ কিলোমিটার সড়ক (৩.৭০ কিলোমিটার সংরক্ষিত বনের ভেতর) নির্মাণ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমের উপর ২ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ।
নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি রুলও জারি করেছেন মহামান্য আদালত। জারিকৃত এ রুলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণ ব্যতিরেকে সংরক্ষিত বনের মধ্যে দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ এবং তা প্রতিরোধে অন্যান্য বিবাদীগণের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা সংবিধান ও দেশে প্রচলিত আইন ও নীতির পরিপন্থি হওয়ায় কেন তা আইনবহির্ভ‚ত, আইনি কর্তৃত্ববিহীন ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন মহামান্য আদালত। একইসাথে উল্লেখিত প্রকল্পটির অধীনে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে প্রস্তাবিত ৩.৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বাতিল, বনের ভেতরে ইতোমধ্যে তৈরি করা সড়কের পাকা অংশ অপসারণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মহেশখালী পাহাড় মৌজার ১৮,২৮৬.৪০ একর সংরক্ষিত বন এবং বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও সংরক্ষণের নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলার (নং- ৯২৭৫/২০২৬) প্রাথমিক শুনানি শেষে জনাব বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও জনাব বিচারপতি মো: আসিফ হাসান-এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ উক্ত আদেশ ও রুলটি জারি করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলাধীন ১২নং পাহাড় মৌজার ১৮,২৮৬.৪০ একর ভূমি বন বিভাগের নিকট ১০০ বছরের জন্য হস্তান্তর করা হয় (তৎকালীন কৃষি ও ত্রাণ অধিদপ্তরের গেজেট নোটিফিকেশন নং ২৫২৯ মূলে)। পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে ১২২২ নং গেজেটমূলে বন আইন, ১৯২৭ এর ২০ ধারার অধীনে উল্লেখিত ভূমি সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করা হয় যেখানে বন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ২০২৬ সালে প্রণীত বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বনভ‚মি ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় প্রাকৃতিক বনের বনবিরুদ্ধ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অধিকন্তু বনভূমি সংরক্ষণে রাষ্ট্রের রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিশ্রæতি (অনুচ্ছেদ ১৮ক)। সংরক্ষিত বনভূমিটি আরএস ও বিএস রেকর্ড মূলে বন বিভাগের নামে খতিয়ানভুক্ত। সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এ বনভূমি জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ।
বন রক্ষায় প্রণীত আইনি বিধান লঙ্ঘন করে ও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিশ্রæতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর “দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (ঝঈজউচ)” এর অধীন ৪.৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রস্তাবিত এ সংযোগ সড়কের ৩.৭০ কিলোমিটার ১২নং পাহাড় মৌজায় অবস্থিত সরকার ঘোষিত সংরক্ষিত বনের মধ্যে দিয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা গ্রহণ ব্যতিরেকেই কার্যক্রম চলমান রেখেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। উল্লেখিত সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা ও বন অধিদপ্তরের আপত্তি থাকা সত্তে¡ও তা উপেক্ষা করে সংরক্ষিত বনভূমির অসংখ্য গাছপালা এবং পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রাখলে বেলা জনস্বার্থে মামলাটি দায়ের করে।
মামলার বিবাদীগণ হলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব; স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব; ভ‚মি মন্ত্রণালয়ের সচিব; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক; বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক; চট্টগ্রাম উপক‚লীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা; কক্সবাজার জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং চট্টগ্রাম উপক‚লীয় বন বিভাগের মহেশখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী এবং তাঁকে সহায়তা করেন এডভোকেট রুমানা শারমিন শান্তা। সরকার পক্ষে ছিলেন মাননীয় এটর্নী জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি মামলা পরিচালনাকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা, বনের গুরুত্ব এবং বন রক্ষায় প্রণীত আইনি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে জনস্বার্থমূলক মামলাটির বিরোধিতা করেন।
আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন-
রুমানা শারমিন শান্তা
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট
ও
আইনজীবী, বেলা।
মোবাইল: ০১৬৮৮৪৫৮২৪৬
তারিখ: ০৬ আগস্ট, ২০২৬

